Wednesday, October 5, 2016

"ভালোবাসি, তাই ভালোবেসে যাই"

হঠাৎ ঠ্যাঁস করে একটি থাপ্পড়ের
আওয়াজ. !!!
কিছুক্ষণের জন্যে সম্পূর্ণ
পার্কটা নিস্তব্ধ
হয়ে গেল।
মাঝে মাঝে পাখির কিচিরমিচির
আওয়াজ
শোনা যাচ্ছে।
কেউ কেউ হা করে তাদের
দিকে তাকিয়ে আছে।



এখনো মুখে হাত
দিয়ে রয়েছে রিফাত।
রিদির কাছথেকে অন্তত পক্ষে এই
থাপ্পড়টা আশা করেনাই সে!
রিদি এখনো রাগান্বিত
চোখে রিফাতের
দিখে তাকিয়ে রয়েছে।
-- ইতর, ছোটলোক এতদিন বিরক্ত করার
পরও আপনার ইচ্ছা মেটেনি? আজ
আবার
আমার হাত
ধরে টানাটানি করছেন. ??
-- আসলে আ.. আমি .....
-- ব্যাস। থামুন. !!!
আপনার মত ছেলেদেরকে আমি খুব
ভাল
ভাবেই চিনি।
প্রথমে ফলো করা তারপর
কথা বলতে চাইবেন, তারপর ফোন
নাম্বার
নেওয়ার চেষ্টা....... উফ অসহ্য।
শুনুন আপনি যাবেন নাকি আমিই
চলে যাব. ??
রিফাতের মুখ দিয়ে কোন কথা বের
হয়না।
মাথা নিচু
করে আস্তে করে পেছনে ফিরে হাঁটা শুরু
করে।





মুখেএখনো হাতটা রয়ে গেছে, হাত
সারাতে গিয়ে দেখে হাতটা কিছুটা ভিজে গিয়েছে।
আস্তে আস্তে সব কিছু কেমন
জানি ঝাপসা লাগছে তার।
আশে পাশের সব কাপল রোমান্টিক
মোমেন্ট টাকে উপভোগ করছে।অঝর
ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে.....
রিফাত হেঁটে চলেছে গন্তব্য ঠিক
জানেনা।
বেশ কিছুক্ষণ
বৃষ্টিতে ভেজাতে তার জ্বর
জ্বর ভাব লাগছে।
প্যান্টের পকেট
থেকে মোবাইলটা বের
করে শিশিরকে ফোন দিল।
-- হ্যালো রিফাত তুই কোথায়?
এতক্ষণ
লাগে আসতে? আর সব কাজ প্ল্যান মত
হয়েছে তো? রিদি কি বলেছে?
দোস্ত এইবার কিন্তু পার্টি দিতেই
হবে।
কারণ তুই নিজেই একটা ট্রিট
দিবি যদি রিদু
রাহু হয়।
শিশিরের কথা গুলো ধমকা হাওয়ার
মতো ধমকা হাওয়ারা মত রিফাতের
কানে হন হন করে ঢুকে পড়ে।
আবারো ঝুম বৃষ্টি .....
এবার কিন্তু রিফাতের চোখেই
জলরাশি খেলা করছে।
-- কিরে ?? কথা বলছিস না যে? তুই
কোথায়
এখন?
-- এইতো আছি... চাচার
দোকানে আই। তুই
তো প্রায় সময় আমাকে সিগারেট
খেতে বলিস। কিন্তু আমি খাওনা।
আজ
কিন্তু
খাবো আর কষ্ট
গুলো ধোঁয়া বানিয়ে আকাশের
দিকে উড়িয়ে দিব. !!!
-- কি বলিস এইসব? তোর
মাথা খারাপ
হয়েছে? ? আচ্ছা আমি আসছি....
রিফাত ইংরেজি তে অনার্স
দ্বিতীয়
বর্ষে পড়ছে, আর রিদি সবে মাত্র
ইন্টার
ফার্স্ট ইয়ারে।
মেয়েটা গম্ভীর টাইপের।
কলেজে যায়
আর
আসেএর বাইরে কোথাও তেমন
একটা যায়না।
কোন ছেলে বন্ধু তো দূরের
কথা তেমন
একটা মেয়ে বন্ধুও তার নেয়।
লেখাপড়াই বেশ মনযোগী তাই
বিভিন্ন
আজাইরা প্যাঁচালে সে নিজেকে জড়াতে চায়না।
যার কারণে এক ঝুড়ি প্রেম অফার
সে ওয়াইটিং লিস্টে রেখে দিয়েছে।
রিদি একদিন কলেজে কোন এক
অনুষ্টান এ
যাওয়ার সময় বেশ ভাল ভাবেই
সেজেছিল।
পড়নে নীল শাড়ি, কপালে বড়
কালো টিপ,
খোলা চুল....
দেখে মনে হচ্ছিল কোন
ডানাকাটা পরী যেন
তার পথা ভূল করে এও পথেই যাচ্ছে।
প্রতিদিনের মতো সেদিনও রিফাত
বন্ধুদের
সাথে চা খেতে খেতে চাচার
দোখানে আড্ডা দিচ্ছিল।
হঠাৎ তার চোখ আটকে যায়
রিদিকে দেখে।
মোটামুটি ফাজিল টাইপের
ছেলে হওয়াতে ক্যাম্পাস এ অনেক
মেয়ের
সাথেই তার বন্ধুত্বতা রয়েছে। কিন্তু
তাদেরকে দেখে কখনো এমন
লাগেনি যেমনটা ঐদিন
রিদিকে দেখে লেগেছি।
তারপর থেকেই রোজ
ওকে ফলো করতে থাকে রিফাত।
কোন রকমে কৌশলে শুধু নামটাই
জানতে পেরেছিল সে।
কিন্তু এতদিন
ধরে ফলো করতে করতে সে একটা সময়
নিজেকে কন্ট্রোল
করতে না পেরে চেয়েছিল
মনের সব কথা আজ
রিদিকে বলে দিতে।
-- না ভাগ্য সর্বদা তার প্রতীকূলেই
ছুটে চলে, আজও তার ব্যতিক্রম
ঘটেনি।
সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে সব
ঘটনা শিশিরকে খুলে বলল সে।
*****
সকাল আট টা !!
এলার্ম বেজেই চলেছে .....
গতকাল বৃষ্টিতে ভেজার
কারণে ঠান্ডা লেগে জ্ব্রর
এবং সর্দি হওয়াতে রিফাত হাজার
চেষ্টা করেও
বিছানা থেকে উঠতে পারেনা।
পাশে রাখা মুঠোফোন
বেজে উঠলে রিফাত
হাতে মোবাইল
নিয়ে দেখে শিশিরের
কল।
-- কিরে ক্লাসে আসবিনা ???
-- না রে... আমার শরীর খারাপ আজ
আসবোনা।
*****
বিকেল বেলা কলেজ
থেকে ফেরার
পথা রাস্তার পাশের সেই চায়ের
দোকানে আড়চোখে তাকায় সে।
কিছু
ছেলে সেখানে আড্ডা দিচ্ছে ভেবেছিল
রিফাত
ও আছে।
তাই অন্যদিনের তুলনাই আজ
সে হাঁটার
গতি কমিয়ে দিল, বেশ কিছুদূর
গিয়ে পেছনে ফিরে থাকালো।
রাস্তার
দিকে কিছুটা অভিমানী চোখে তাকিয়ে রইল
কিছুক্ষণ না...
রিফাতের ছায়াও
দেখা যাচ্ছেনা..!
এবার হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল
সে.......!!!
*****
কফি হাতে ছাদের ফুলের
বাগানটির
পাশে দাঁড়িয়ে আছে রিদি।
মন খারাপ থাকলে এই
জায়গাটা তেই
সে একা একা সময় কাটায়।
নিজের ওপর যতটা না রাগ
হচ্ছে তার
চেয়েও
বেশি রাগ হল রিফাতের ওপর।
-- হু... স্বীকার করলাম রাগের মাথায়
হয়তো থাপ্পড়টা মেরেছি। তাই
বলে কি ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ
টা অন্তত
সে দিবেনা ??.
বিরবির করব বলতে লাগল রিদি।
*****
সেদিনের মতো আজও আকাশে ঘন
কালো মেঘ জমেছে। হয়তো একটু পরই
বৃষ্টি নামবে। রীতি মত আজও চায়ের
দোকানে আড্ডা দিচ্ছে রিফাত।
শরীর মোটামুটি ভাল হলেও তার
মনটা এখনো খারাপ।
সেদিনের ঘটনা মনে পড়তেই
নিজেকে গালি দিচ্ছে রিফাত।
নাহ.....
কাউকে নিঃস্বার্থ
ভালবাসলে এতটা কষ্ট
পেতে হবে সেটা রিফাতের
জানা ছিলনা।
-- আচ্ছা আমি কি এখনো ওকেই
ভালবাসতে পারবো? কিন্তু
কিভাবে?
সে তো অন্তত
পক্ষে একটা সরি বলতে পারত. ??
কি জানি,
হয়তো অন্য কারো মনের
কারাগারে সে নিজেকে বন্ধি কররেখেছে !!
অতঃপর একটি দীর্ঘশ্বাস ...
-- এই রিফাত এখনো সিগারেট শেষ
হয়নি?
এই
দেখ বিকেল চারটা বাজে।
ফ্রেন্ড চার্কেল থেকে হঠাৎ কেউ
একজন
এভাবে বলে উঠল।
না ..
সেদিকে রিফাতের কোন কর্ণপাত
নাই।
প্রতিদিন এই টাইমে এই
রাস্তা দিয়েই
রিদি কলেজ
থেকে বাড়িতে ফিরে।
প্রতিদিনের মত আজও রিফাত
উঠে দাঁড়ালো,
আর একটু পর রিদি আসবে।
নাহ...
মন এগুচ্ছেনা তার।
আবার বসে পড়ে আড্ডায়।
*****
সেদিনের ঘটনার পর থেকে রিদিরও
কোন
কিছুতেই মন বসছেনা।
মনের মধ্যে সারাক্ষণ অস্থির
একটা ভাব
কাজ করছে তার মধ্যে!!
কিই এমন হয়েছিল? সে তো একটু
খানি হাতটা ধরেছিল শুধু !!
নাহ...
আজই আমি ক্ষমা চেয়ে নিব!
ভাবতে ভাবতে হাঁটতে থাকে রিদি।

তো দোকানে আড্ডা দিচ্ছে রিফাত।
রিফাত এখনো রিদিকে খেয়াল
করেনি।
তাই রিদি ইচ্ছা করেই অন্য দিনের
তুলনাই
আজকে হাঁটার গতি কমিয়ে দেয়।
মাঝে মাঝে ধমকা হাওয়া একটু পরই
বৃষ্টি নামতে পারে......
কিছুদূর যাওয়ার পর রিদি পেছন
ফিরে তাকায়।
-- একি রিফাত আসছেনা ???
এবার কিন্তু রিদির
রাগটা বেড়ে দিগুণ
হয়ে গেল...
-- এত্ত ভাব ছেলেটার...
ওয়েট দেখাচ্ছি.....!!!
এদিক ওদিক
না তাকিয়ে সোজা সেই
দোকানের দিকে হাঁটা দিল
রিদি।
হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্যে তাদের
আওয়াজ
বন্ধ
হয়ে যায়।
সকলেই রিদির
দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
তার রাগান্বিত মুখ দেখে কোন
বিপদে পরার
আগেই সবাই কেটে পরে ।
রিফাত এখনো বসে আছে।
সে এমন ভাব করছে যেন
রিদিকে সে চিনেই
না। অন্য সমনস্ক হয়ে সিগারেট
টা ধরালো।
এবার কিন্তু রিদি নিজেকে আর
কন্ট্রোল
করতে চেয়েও পারেনা।
আবারও ঠ্যাঁস...........!!
নাহ...
এইবার রিফাত আর মুখে হাত দিলনা।
হয়তো থাপ্পড় টা তেমন লাগেনাই।
মুখটা নিচু করে মুচকি হাসছে...
-- কি ভাবো নিজেকে হু......???
ইচ্ছা হলেই পিছু
নিবে নয়তো ছেড়ে দিবে।
আমিই বা কি বলবো তুমি তো বেশ
আরামেই
আছো। সিগারেট ,সাথে ফ্রেন্ডের
আড্ডা !!
অন্ততপক্ষে স্যরি বলার
তো একটা সুযোগ দিবে।
চোখ জ্বল জ্বল করছে রিদির।
এই মুহুর্তে চেহারাটা দেখার মত।
মুখটা লাল হয়ে ফুলে গিয়েছে.....
এখনো বকা দিয়ে যাচ্ছে সে..
আর সেগুলো উপভোগ করছে।
একটা মেয়ে আসলে কতটা সুন্দর
হতে পারে তা রিদিকে না দেখলে বুঝা যেতনা।
ক্ষণিক পরে রিদি দ্রুত
গতিতে হাঁটা দিল
বাড়ির দিকে।
একটু পর তার বাম হাতের কনিষ্ট
আঙ্গুলে কারো হাতের ছোঁয়া পায়।
পেছন ফিরে তাকায় রিদি....
রিফাত মুখে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ
করে আছে নেক্সট থাপ্পড়ের
আশায়....!!
তার চেহারা দেখে রিদি খুব কষ্ট
করেই
হাসি থামালো।
নাহ....
বুকের
মাঝখানে কারো মাথা রাখার
ফিলিংস
পেল সে।
হয়তো আগেও ঠিক এভাবেই তার
মনের
কারাগারে বন্ধি রাখতে চেয়েছিল
রিদিকে।
চারদিকে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
ঠিক সেদিনের মতোই একটু পরই অঝর
ধারায়
বৃষ্টি হচ্ছে....
এদিক সেদিক থাকিয়ে দেখল
রিফাত
নাহ...
আশে পাশে কোন কাপল নেয়।
হয়তো তাদের পবিত্র ভালবাসার
কারণে আজকের সুন্দর বর্ষণমুখর। সুন্দর
বিকেলটা সৃষ্টি কর্তা তাদেরকে উপহার
দিয়েছেন. !!!



No comments:

Post a Comment